০৯ আগস্ট ২০২৬
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ও তার ১২ বছর বয়সী ছোট বোনকে বেআইনিভাবে বেঁধে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেয়া এবং গলায় জুতার মালা পরানোর মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর শারীরিক নির্যাতন এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী ঘটনা ঘটেছে। ব্লাস্ট এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এ নির্যাতনের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনানুগ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।
ইতোমধ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ধারা ১৪ তে- অনলাইন বা অফলাইনসহ যে কোন সংবাদ মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য বা ছবি প্রকাশ ও প্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ থাকায়, অনতিবিলম্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে উক্ত ছবি ও ভিডিও অপসারণের জোর দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট।
একইসাথে, এ ঘটনায় নির্যাতনের ভুক্তভোগী দুই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের ইতোমধ্যে এলাকা ছাড়তে হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট। এছাড়াও, ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট। পাশাপাশি, বিচারবহির্ভূত ও বেআইনি সাজা বন্ধে ২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়ের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে ব্লাস্ট। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপকে ব্লাস্ট স্বাগত জানাচ্ছে।
প্রেক্ষাপট:
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অভিযোগ তুলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো ও মাথার চুল কেটে এ অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনকালীন সময়ে পাশে একটি খুঁটির সঙ্গে তাঁর ছোট বোনকেও বেঁধে রাখা হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে একইদিন দুপুরে সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের দুই বোনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ সহিংসতার ঘটনায় গত ৭ আগস্ট তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ সহ মোট ছয়জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায়, পরদিন ৮ আগস্ট দুজনকে গ্রেপ্তার করে সখিপুর থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচার বহির্ভূত শাস্তির নামে যে কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি, সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত দণ্ডকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে। একইসাথে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে- কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড কিংবা কারো সাথে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না- মর্মে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
বার্তা প্রেরক:
মুসফিকুর রহমান মারুফ, সমন্বয়কারী- কমিউনিকেশন, ব্লাস্ট
মোবাইল: ০১৫৫২-৩২৪৩৭৬; ই-মেইল: communication@blast.org.bd
