২৯ জুলাই ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬- এ কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে সংশোধন আনয়নের আহ্বান জানাচ্ছে ব্লাস্ট

ব্লাস্ট “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬” প্রণয়নের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। সেইসাথে খসড়া আইনের কয়েকটি ধারা পুনর্বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব, তদন্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন, কার্যকর এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে, ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে অনুপস্থিত, এমন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান ২০২৬ এর খসড়া আইনটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাঁচজন পূর্ণকালীন কমিশনার নিয়োগ (ধারা ৫), বাছাই কমিটিতে নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা (ধারা ৭) উল্লেখযোগ্য। তবে কমিশনের স্বাধীনভাবে কার্য পরিচালনার লক্ষ্যে খসড়াতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন বলে সুপারিশ করছে ব্লাস্ট। কমিশনে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে পাঁচ সদস্যের মধ্যে অন্তত দুইজন নারী এবং অন্তত একজন সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখা (ধারা ৫), নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিত্বসম্পন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতে বাছাই কমিটিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অন্তর্ভুক্তি (ধারা ৭)-র বিধান সংযুক্ত প্রয়োজন বলে মনে করে ব্লাস্ট। সেইসাথে, কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে কমিশনকে নিজস্ব বিধি, প্রবিধান ও কার্যপ্রণালি প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান (ধারা ৪০) এবং কার্যক্রম পরিচালনা বা কার্যালয় স্থাপনে নির্বাহী বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণের বিধান বাতিলেরও (ধারা ৪) সুপারিশ করেছে ব্লাস্ট।

২০২৬ এর খসড়া আইনটিতে আটক স্থান (Detention Site) পরিদর্শনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিভাগ (NPM) গঠনের বিধান (ধারা ৩৩) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিধান ২০২৫ সালের অনুাস্বাক্ষরিত নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা দন্ডবিষয়ক সনদের ঐচ্ছিক প্রোটোকল OPCAT-এর অধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাকে বাস্তবায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে, কার্যকরী ও স্বাধীন NPM প্রতিষ্ঠায় নিশ্চিতে কমিশনারদের সরাসরি তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা (ধারা ১৬) প্রদানের সুপারিশ করছে ব্লাস্ট। এরই সাথে, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণে তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি বা নিজস্ব তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা (ধারা ২০) প্রদান, NPM এর তদন্ত ক্ষমতাকে অধিক কার্যকরী করবে বলে বিশ্বাস করে ব্লাস্ট।

খসড়া আইনে কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে আমলযোগ্য করার বিধান (ধারা ১৭) সংযুক্ত করা একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ। সেইসাথে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রতিকারমূলক নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা (ধারা ৩৫) কমিশনকে প্রদানের বিধান কার্যকর হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করবে।

পরিশেষে, ব্লাস্ট সুপারিশ করছে যে, কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট দাখিল এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি স্পিকারের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে তা সংসদে উত্থাপনের বাধ্যতামূলক বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন (ধারা ২৬)

পটভূমি

গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অংশীজন সভায় “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬”-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী অংশীজনদের সাত দিনের মধ্যে খসড়া আইনের ওপর লিখিত সুপারিশ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্লাস্ট ২৪ মে ২০২৬ তারিখে খসড়া আইনের ওপর বিস্তারিত সুপারিশমালা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেন। গত ২৫ জুলাই ২০২৬ এ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান জানান যে খসড়া আইনটিকে মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তারই ধারাবহিকতায় ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সুপারিশগুলোর প্রধান বিষয়সমূহের তুলে ধরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়সহ আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রদান করা হয়।

বার্তা প্রেরক:

মুসফিকুর রহমান মারুফ, সমন্বয়কারী- কমিউনিকেশন, ব্লাস্ট

মোবাইল: ০১৫৫২-৩২৪৩৭৬; ই-মেইল: communication@blast.org.bd

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এর উপর ব্লাস্টের দাখিলকৃত সুপারিশের সার-সংক্ষেপ (২৯ জুলাই ২০২৬)।

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এর উপর ব্লাস্ট কর্তৃক প্রদত্ত বিস্তারিত সুপারিশ।

Note on Draft National Human Rights Commission Act 2026 (29 July 2026)

Recommendations Submitted by BLAST on the Draft National Human Rights Commission Act, 2026

Media Coverage:

(Bangla News)

(Englsih News)