২৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: দ্রুত বিচার, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও স্মৃতিফলকের দাবি
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জনের বেশি শ্রমিক নিহত এবং ২,৪৩৮ জন আহত হন। এ ঘটনার ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) “রানা প্লাজা ভবন ধস: বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার” শীর্ষক মতবিনিময় সভা ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, ব্লাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যুগ্ম মহাপরিদর্শক (সাধারণ অধিশাখা) মো: মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউর ফয়সাল মাহমুদ, ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার, ঢাকা লেবার কোর্ট বার এসোসিয়েশন -এর সাবেক সভাপতি অ্যাড. সেলিম আহসান খান প্রমূখ।
ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) মো. বরকত আলীর সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, তিনি সভার শুরুতে দ্রুত বিচার, যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং জুরাইন কবরস্থানে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন মো. তৈয়্যেবুর রহমান।
ব্লাস্টের সিফাত-ই-নূর খানম উপস্থাপনায় বলেন, রানা প্লাজা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিদিন শুনানি নির্ধারণ জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, টেকসই পুনর্বাসন, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড নির্ধারণ প্রয়োজন। সাভার ও জুরাইনে নিহতদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণেরও সুপারিশ করা হয়।
ব্লাস্ট পুনরায় জোর দিয়ে জানায়—দ্রুত বিচার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রানা প্লাজা ভবন ধসে আহত শ্রমিক মাসুদা আক্তার ও হাসিনা বেগম তাদের বক্তব্যে বলেন, রানা প্লাজা ধসের দিনটি কে দিবস হিসেবে ছুটি ঘোষনা চেয়ে সকলের কাছে আবেদন করেন, যাতে এই দিনটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। তারা তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পূর্নবাসন ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সকলের কাছে দাবী করেন।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সকলের একত্রে কাজ করতে হবে। সেই সাথে তারা স্মৃতি ফলক নির্মানের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনসহ শ্রমিকদের স্থায়ী চিকিৎসা এবং টেকসই পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন।
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউর ফয়সাল মাহমুদ বলেন ,দ্ন্ডবিধির অধীনে চলমান মোট সাক্ষী সংখ্যা ৫৯৪ জন। এমন পুলিশ অফিসারদের সাক্ষী করা হয়েছে যারা ভবন ধসের সময় অন্য জেলায় কর্মরত ছিল তার পরেও এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে তারা সাক্ষীদের তালিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন সাক্ষীদের বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহনে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। আশা করা যায় এই বছরের মধ্যে দন্ডবিধির অধীনের মামলার নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব।
মোঃ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, যুগ্ম মহাপরিদর্শক, সাধারণ অধিশাখা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বলেন শ্রম আদালতে চলমান মামলায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিতি নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সেলিম আহসান খান, প্যানেল আইনজীবী, ব্লাস্ট, তার বক্তব্যে বলেন, মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সকলের মিলিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পূর্নবাসনের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।
তাসলিমা আখতার বলেন, ক্ষতিপূরণ শ্রমিকদের আইনি অধিকার। শিল্পের প্রবৃদ্ধি হলেও শ্রমিকরা বঞ্চিত—এ প্রশ্ন তুলে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, রানা প্লাজা ভবনধস বিচার প্রক্রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করা দরকার। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের আজীবন বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পূর্নবাসন করার ব্যবস্থা করতে হবে । এছাড়া সামজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রানা প্লাজার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
সারা হোসেন বলেন, হাইকোর্টে ৫ টি রিট মামলার রয়েছে। রীট মামলার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পরিমান সংবিধানের আলোকে নির্ধারিত হতে পারে। এছাড়া আহতদের নিয়ে একটি টিম গঠন করে আইনজীবী, ট্রেড ইউনিয়ন ও গনমাধ্যম সহ সকলে সমন্বিত হয়ে মামলার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। জুলাই আন্দোলনে যারা প্রান দিয়েছেন তাদের বিচার চাইতে গিয়ে বোঝা যায়, বিচারে প্রতিকার পাওয়া কতটা কঠিন। তবে রানা প্লাজা ভবনধসে ক্ষতিগ্রস্তদের বিচার বিশেষ বিবেচনায় পদক্ষেপ গ্রহন প্রয়োজন পাশাপশি যথাযথ ক্ষতিপূরন ও পূর্নবাসনের বিষয়গুলোতে উদ্যেগ গ্রহন আবশ্যক।
অত্র সভায় ভুক্তভোগী শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন:
সিফাত-ই-নূর খানম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট/ লিগ্যাল স্পেশালিষ্ট, ব্লাস্ট
মোবাইল: ০১৭৪৯-২৮০০৭৮; ই-মেইল: sifat@blast.org.bd
বার্তা প্রেরক:
কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)
ই-মেইল: communication@blast.org.bd
