২২ এপ্রিল ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রানা প্লাজা ভবন ধসের ১৩ বছর:

নিহত ১১৩৬ জনের জন্য ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ ও স্মৃতিফলক নির্মানের দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট

২৪ এপ্রিল ২০২৬, রানা প্লাজা ভবন ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সরকারকে সকল বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এবং ভবন ধসে নিহতদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক প্রতিষ্ঠার জন্য অবিলম্বে ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ২,৪৩৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান। একাধিক আদালতে এখনও ১৪ টি মামলা বিচারাধীন এবং হাইকোর্ট বিভাগে একটি স্বতঃপ্রণোদিত রিট এবং আরও চারটি রিট পিটিশন শুনানীর জন্য অপেক্ষমান থাকায় ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। আহত শ্রমিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও জবাবদিহিতা বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি।

পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন আনা হলেও, বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধীনে বিদ্যমান ক্ষতিপূরণের বিধানগুলো এখনও চরমভাবে অপর্যাপ্ত, যা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ২,০০,০০০ টাকা থেকে স্থায়ী সম্পূর্ন অক্ষমতার ক্ষেত্রে ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) জনাব মোঃ বরকত আলী এ বিষয়ে বলেছেন, “দীর্ঘ তের বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনগত ক্ষতিপূরণ পায়নি এবং দীর্ঘসুত্রিতার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। রানা প্লাজা সংক্রান্ত মামলাসমূহকে বিশেষ মামলা হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন”।

ব্লাস্ট সরকারকে অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে:

১. পরপর শুনানির তারিখ নির্ধারণ, সাক্ষীদের উপস্থিতি সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সকল ১৪টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

২. আহত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা।

৩. সাভারের রানা প্লাজা এলাকায় এবং জুরাইন কবরস্থানে নামহীন কবরে সমাহিত নিহত শ্রমিকদের নামসহ একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করা।

৪. আইএলও কনভেনশন ১২১, টর্ট নীতিমালা এবং প্রাসঙ্গিক রায়সহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করে, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু ও আঘাতের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য শ্রম আইন পর্যালোচনা ও সংশোধন করা।

৫. শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৬. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যাতে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও পরিপালন প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তদারকি জোরদার করে এবং নিয়মিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করে, তা নিশ্চিত করা।

আরও তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন:

মুসফিকুর রহমান মারুফ, সমন্বয়কারী, কমিউনিকেশন, ব্লাস্ট

মোবাইল: ০১৫৫২-৩২৪৩৭৬; ই-মেইল: maruf@blast.org.bd

সিফাত-ই-নূর খানম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট/ লিগ্যাল স্পেশালিষ্ট, ব্লাস্ট

মোবাইল: ০১৭৪৯-২৮০০৭৮; ই-মেইল: sifat@blast.org.bd

পটভূমি

রানা প্লাজায় কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু ও আঘাত সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাসমূহ:

• শ্রম আদালতে ১১টি মামলা: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীনে ১১টি মামলা দায়ের করেছে। সবগুলো বর্তমানে ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

o সাতটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নির্ধারিত আছে।

o একই তারিখে একটি মামলার অভিযোগ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

o বাকি তিনটি মামলার অবস্থা সম্পর্কে আদালত রেজিস্ট্রিতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

• ফৌজদারি আদালতে ৩টি মামলা:

o দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর অধীনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, একটি সাভার থানার উপ-পরিদর্শক ওয়ালী আশরাফের এবং অন্যটি নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তারের।

o দুটি মামলারই বিচার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে যৌথভাবে চলছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল, এখন পর্যন্ত ২৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে ৩০টি শুনানির তারিখ পার হয়ে গেছে এবং তালিকাভুক্ত ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।

o রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ১৯৫২ সালের ভবন নির্মাণ আইনের অধীনে দায়ের করা তৃতীয় একটি মামলা ১৪ জুন ২০১৬ তারিখে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ১৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেননি। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত রয়েছে।

• হাইকোর্টে রিট পিটিশন: পাঁচটি রিট পিটিশন শুনানির জন্য বিচারাধীন রয়েছে।