১০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
সম্প্রতি নারীদের গ্রেফতার এবং আদালতে রিমান্ড আবেদনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে ব্লাস্ট। সেইসাথে, গ্রেফতার এবং রিমান্ড প্রক্রিয়ায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সুষ্ঠু প্রতিপালনের জোরালো দাবী জানাচ্ছে ব্লাস্ট।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ৩১ (আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার), ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ), ৩৩ (গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ) এবং ৩৫ (বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ) সমূহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসাথে, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও অভিযুক্তকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিচারকদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের যুগান্তকারী রায়ের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এ রায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা সমূহ হলো:
• কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে গ্রেফতারের বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু অনধিক ১২ ঘন্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে রিমান্ড বা হেফাজতে নিতে হলে কিংবা বিচারিক হেফাজত তথা কারাগারে প্রেরণ করতে হলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা আবশ্যক।
• কাউকে গ্রেফতার করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।
• যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তিনি অথবা গ্রেপ্তারের স্থানে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারা দেখতে চাইলে, গ্রেফতারকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই তাঁর পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।
• গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো রকম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেলে, গ্রেফতারকারী কর্মকর্তা এধরণের আঘাতের কারণ ও বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে তাঁকে নিকটতম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করবেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকের সনদ সংগ্রহ করবেন।
• গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তাঁর পছন্দের আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার কিংবা স্বজন বা নিকটজনের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশিকা “অপরাধ তদন্ত নির্দেশিকা” এর অধ্যায় ৬.৬-এ নারীদের গ্রেফতার সংক্রান্ত কিছু বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, নারীদের গ্রেফতারের সময় পুলিশকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং তদন্তের সময় তাদের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
এমতাবস্থায়, যে কোন পরিস্থিতিতেই যেন গ্রেফতার ও রিমান্ডের ক্ষেত্রে সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের নির্দেশনার লঙ্ঘন না হয় এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার যেন নিশ্চিত হয় সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে ব্লাস্ট।
বার্তা প্রেরক:
কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট
ই-মেইল: communication@blast.org.bd
