১১ মার্চ ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানী প্রতিরোধ বিষয়ক আইন দ্রুত প্রণয়নের দাবী

সকল কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ কমিটিকে সক্রিয় ও কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত তদারকি ব্যবস্থা রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন “কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভা”-র উপস্থিত বক্তারা।

হাইকোর্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে বক্তারা বলেন যে, ২০০৯ সালে হাইকোর্ট কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেখানে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনাগুলো আইন হিসেবে বিবেচিত হবার এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নেরও নির্দেশ দেয়া হয়। আলোচিত খসড়া অধ্যাদেশকে একটি ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রণয়ন করা জরুরি। পাশাপাশি, খসড়া অধ্যাদেশে অভিযোগ জানানোর জন্য নির্ধারিত তিন মাসের সময়সীমা বাস্তবতার আলোকে বাড়ানো এবং প্রতিরোধমূলক ঝুঁকি নির্ণয়, কার্যকর মনিটরিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বিষয়ে আলোচকরা বলেন, গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই তা গঠন হয়নি। একইসাথে, যেখানে কমিটি আছে সেখানেও সদস্যদের সংবেদনশীলতা ও হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা অবগত নন। তদন্ত শেষে শাস্তির সুপারিশ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা আদালতে আপিল করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে বার্ষিক প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তা মানছে না। তার প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সমন্বয়ে একটি কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন এবং দ্রুত একটি বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়ন করা জরুরি।

সংসদ সদস্য মোঃ হাসান রাজীব প্রধান, এমপি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নে করণীয় সম্পর্কে আলোচনায় তিনি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজকে ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে নীতিগত পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা বা বাইরের শর্ত পূরণের জন্য দায়সারাভাবে কমিটি গঠনের বাস্তবতা, অভিযোগ কমিটি গঠন না হলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুপস্থিতি, অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগীদের প্রলোভন, চাপ বা চাকরি হারানোর হুমকি প্রদান, তদন্ত প্রতিবেদন পেতে বিলম্বসহ নির্দেশনা বাস্তবায়নের নানান ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সভার শেষে সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স স্টাডিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সিনিয়র ফেলো অফ প্র্যাক্টিস এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য মাহীন সুলতান বলেন যে, এতদিনেও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন না হওয়া বিষয়টির প্রতি অগ্রাধিকার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তিনি দ্রুত আইন প্রণয়ন করতে নাগরিক সমাজ, ট্রেড ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী সংগঠন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং অমান্য করলে জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলসহ কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আজ ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দ্যা ডেইলি স্টারের আজিজুর রহমান সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসলিমা ইয়াসমীনের সঞ্চালনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মোঃ বরকত আলী, পরিচালক, আইন, ব্লাস্ট। এছাড়াও আলোচনা সভায় আরো অংশগ্রহণ করেন ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শ্রবনা দত্ত, সংসদ সদস্য মোঃ হাসান রাজীব প্রধান এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স স্টাডিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সিনিয়র ফেলো অফ প্র্যাক্টিস এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য মাহিন সুলতান।

বার্তা প্রেরক:

কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)

ই-মেইল: communication@blast.org.bd