০৮ মার্চ ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনা:
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে গত ০৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের কাছে অনুলিপি প্রদান করায় সরকারের নিস্ক্রিয়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) লঙ্ঘনের জন্য এবং বিমান দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদ্যালয় স্থানান্তরের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে আদালত রুল জারি করেন।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাননীয় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মাননীয় বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
উল্লেখ্য, নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের নয়জন অভিভাবক- মোঃ সাহাবুল শেখ, মোঃ আসলাম, মেরাজ আহমেদ, রুপা খানম, মোঃ আবুল হোসেন, মোহাম্মদ আবু শাহীন, মোঃ ফারুক হোসেন, মনিকা আক্তার, আব্দুল কাদির এবং ব্লাস্ট যৌথভাবে এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুঃ আমিরুল হক তুহিন; তাঁকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট বনরূপা রায় ও অ্যাডভোকেট শারমিন সুলতানা নীলা ।
আহত শিক্ষার্থী, মারিয়া উম্মে আফিয়ার মা উম্মে তামিমা আক্তার বলেন যে,
“আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া এইটাই যে, এতদিন আমরা কিছুই করতে পারিনি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, হয়তো আমি আমার বাচ্চার বিচারটা পাবো”।
আজ মহামান্য আদালতের রুল পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট মুঃ আমিরুল হক তুহিন বলেন,
“ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ন্যায় বিচারের জন্য প্রতীক্ষার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আজকের এ আদেশ পেল। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রত্যাশা, তারা সন্তান হারা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে সক্রিয় ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে”।
প্রেক্ষাপট:
২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর Chengdu FT-7BGI মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের পরপরই ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত (৩২ শিক্ষার্থী, ৩ শিক্ষক ও পাইলট) এবং ১৭০ জনের বেশি আহত হন। তদন্তের জন্য বোর্ড অব ইনকোয়ারি ও পৃথক কমিশন গঠন করে সরকার, এবং ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের ৯ জন অভিভাবক ও ব্লাস্ট যৌথভাবে জনস্বার্থে রিট মামলা (নং ২১৫৪/২০২৬) দায়ের করেন, যেখানে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।
বার্তা প্রেরক:
কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)
ই-মেইল: communication@blast.org.bd
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন:
বনরূপা রায়, স্টাফ ল’ইয়ার, ব্লাস্ট
মোবাইল: 01776-601451
