০১ মার্চ ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিতের জোরালো দাবি জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট

সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদীতে একজন ১৫ বছরের তরুণীকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে দেশব্যাপী সংঘটিত হওয়া ধর্ষণসহ সকল ধরণের যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এবং সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট। এছাড়াও, এ ধরণের সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যথা- ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে এ জোট। পাশাপাশি, এ ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আবেদন জানাচ্ছে এ জোট।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বুধবার রাতে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় বাবার সামনে থেকে একজন কিশোরী (১৫) কে অপহরণ করার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষে খেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীর পরিবারের দাবি যে, তারা ধর্ষণের বিচার চাওয়ার পর ছয় জন তরুণ তাকে অপহরণ করে খুন করে।

অপর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১১ টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ইসলামনগর এলাকায় তার নিজ বাসায় ডেকে এনে ভুক্তভোগীর মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করে, হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেয়- যার ফলে তার হাতের তিন থেকে চার সেন্টিমিটার অংশ পুড়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে বের হয়ে গেলে- ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আশুলিয়া থানায় মামলা হবার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে তাকে ঢাকার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হলেও দুই ঘন্টা অপেক্ষা করিয়েও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেখানে ভর্তি না করিয়ে পুনরায় বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। পুলিশ আসামিকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়াও প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এক বাড়ি থেকে দাদি (৬৫) এবং পাশের শর্ষেখেত থেকে নাতনি (১৫) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ হতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মধ্যরাতে কিশোরী নাতনিকে তুলে নেয়ার চেষ্টায় বাধা দেয়ার কারণে দাদিকে হত্যা এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের পর কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এরূপ আরো বহু প্রকাশিত-প্রকাশিত যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা মূলত বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ২৮ (ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য), ৩১ (আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার) এবং ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ) অনুচ্ছেদ সমূহের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একইসাথে, বিদ্যমান আইন বিশেষত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) এর সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

পরিশেষে, বাংলাদেশের নব-নির্বাচিত সরকার সংবিধানের সুষ্ঠু প্রতিপালন এবং দেশে বিদ্যমান আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে- মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট।

আরো তথ্য জানতে দেখুন –

Web: https://blast.org.bd/campaigns/rape-law-reform-now/

Facebook:https://www.facebook.com/rapelawreformcoalition

Email: rlrcoalition@gmail.com

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট এর সচিবালয়ের পক্ষে

কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)

ই-মেইল: communication@blast.org.bd