তারিখ: ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে বর্তমান শ্রম আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তা সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারী করা হয়েছে। যা দেশের শ্রম কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহু প্রতীক্ষিত পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। উক্ত সংশোধনীতে শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত বেশকিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত ও পরিমার্জন করায় ব্লাস্ট আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে।
ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) জনাব মোঃ বরকত আলী এ বিষয়ে বলেছেন, “সংশোধিত শ্রম অধ্যাদেশে শ্রম বান্ধব বিধান সমূহ যুক্ত করায় প্রথমেই স্বাগত জানাই। অত্র সংশোধিত শ্রম অধ্যাদেশটির যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন হলে আধুনিক শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শ্রম আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রসুতি কল্যান ছুটির বিধান ৬ মাস করা, ক্ষতিপূরণের পরিমান আর্ন্তজাতিক মানদন্ড অনুযায়ী নির্ধারন এবং শ্রম মামলা জট কমাতে আদালতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তকরনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান সমূহ পরবর্তী সংশোধনীতে সংযোজন করা হবে বলে আমরা আশা করছি”
সংশোধিত শ্রম আইনে অনেক অগ্রগতি আছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সংশোধনের মধ্যে শ্রমিকের সংজ্ঞা পরিবর্ধন করা হয়েছে। অত্র সংশোধনীতে “মহিলা” শব্দের পরিবর্তে নারী শব্দটি অন্তর্ভুক্তকরণ, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানির সংজ্ঞা, যৌনহয়রানির সংজ্ঞাসহ বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়েছে। সংশোধিত শ্রম অধ্যাদেশে গৃহপরিচারক ও নাবিকদের শ্রমিকের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে তারা শ্রম আইনের সুরক্ষা পাবেন। সম কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জবরদস্তিমূলক শ্রমের সংজ্ঞাসহ শাস্তির বিধান অর্ন্তভূক্ত হয়েছে, অর্জিত ছুটির পরিমান বৃদ্ধি, শ্রমিক সংগঠনের অধিকার বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠনের বিধান আনা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
শ্রম অধ্যাদেশের এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে যাতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিরাপদ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারে সেলক্ষ্যে এই সংশোধনীর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও কার্যকর পর্যবেক্ষন এর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্লাস্টের পক্ষ থেকে সুপারিশ করছে।
পটভুমি:
উল্লেখ্য যে, ব্লাস্ট দীর্ঘদিন যাবত “যৌন হয়রানি”- এর ব্যাখ্যা অর্ন্তভূক্তকরণ ও যৌনহয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠনের জন্য বিধান সংযোজনসহ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রসুতি কল্যাণ ছুটি বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিতসহ ক্ষতিপূরণের অধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কাছে দাবী করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে এ বিষয়ে সভা ও কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রস্তুত করতঃ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ে পেশ করেছে।
এছাড়াও গত ২ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ ব্লাস্টের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশন এর নিকট বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮), বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ (সংশোধিত ২০২২) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতিমালার সংস্কার এবং কার্যকর বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করে একটি সুপারিশমালা প্রদান করে এবং গত ২৫ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে শ্রম মন্ত্রনালয়ে ইমেইলে ব্লাস্টের পক্ষ থেকে শ্রম আইন সময়োপযোগী করার জন্য বর্তমান সংশোধন বিষয়ে একটি সুপারিশ প্রদান করা হয়েছিল । অত্র সংশোধনীতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রসুতি কল্যাণ ছুটির বিধান ৬ মাস বৃদ্ধি দরকার ছিল, কর্মস্থলে দূর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল অন্তর্ভূক্ত হলেও ক্ষতিপূরণের পরিমান আর্ন্তজাতিক মানদন্ড অনুযায়ী নির্ধারন করা প্রয়োজন ছিল, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ অন্তর্ভূক্ত করা হলেও আদালতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সংযোজন আবশ্যক ছিল এবং ক্রান্তিকালীন সময়ে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বাস্তবায়নে বিধান অন্তর্ভূক্তকরণ জরুরি ছিল।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শ্রম আইনকে যুগোপযোগীকরণে উপরোক্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হবে এবং বর্তমান সংশোধিত অধ্যাদেশ এর ইতিবাচক অগ্রগতির প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বার্তা প্রেরক:
কমিউনিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)
ইমেইল: communication@blast.org.bd
